নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসার এক মিলনমেলা। প্রিয় দলের জয়-পরাজয়কে ঘিরে যেমন সৃষ্টি হয় নানা আলোচনা, তেমনি বাড়ে সমর্থকদের উন্মাদনাও। সেই উন্মাদনা থেকে পিছিয়ে নেই ময়মনসিংহের ছয় তরুণও। বিশ্বকাপকে ঘিরে তারা প্রতিদিনই মেতে উঠছেন ফুটবল উৎসবে।
| গোপন মিটিং চলাকালীন গোপন ক্যামেরায় তোলা ছবি |
বিশ্বকাপ চলাকালে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে খেলা দেখা এখন তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। রাতভর ম্যাচ উপভোগের পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচের কৌশল, গোল, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে চলে দীর্ঘ আলোচনা। ঘুমহীন রাতের ক্লান্তি যেন ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসার কাছে হার মেনে যায়।
এই ছয় তরুণের মধ্যে রুপম, রিমেল, সাফিন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থক।সাদমান সাকিব ও মাখফারুল আর্জেন্টিনার খেলায় মুগ্ধ হয়ে দলটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে মাখফারুল ও সাদমান সাকিব যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থক। অন্যদিকে রাকিব ও মাহির ব্রাজিল সাপোটার হওয়ার ঢাকায় প্রবেশ করতে পারছে না!
তবে গোপন সূত্র হতে তথ্য পাওয়া গেছে যে, ভন্ড মাখফারুল ও সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য সাকিব ভাই আমেরিকার ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আমেরিকা সাপোর্ট করে; তা না হলে তারা কেও আমেরিকাকে পাত্তা দেয়না!
ভিন্ন দলের সমর্থক হলেও খেলা নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব।
প্রিয় দলের জার্সি পরে একসঙ্গে খেলা দেখা, প্রতিটি গোলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ নিয়ে মতামত বিনিময় এবং বন্ধুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলোচনা—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপকে ঘিরে তাদের দিনগুলো হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে তারা নিজেদের এলাকায় একসঙ্গে খেলা দেখারও আয়োজন করেন। এতে আশপাশের বন্ধু ও প্রতিবেশীরাও অংশ নেন। ফলে প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন ও উৎসবের আবহ।
তরুণদের ভাষ্য, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি মানুষকে একত্রিত করে, বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলে। তাদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপের এই উৎসবমুখর পরিবেশ ভবিষ্যতেও একইভাবে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেবে।


0 মন্তব্যসমূহ